হাওজা নিউজ এজেন্সি’র তথ্যমতে, ধর্মীয় নীতিশাস্ত্রবিষয়ক আলোচনায় শহীদ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনেয়ী (রহ.) তাঁর ফিকহের উচ্চতর পাঠের অধিবেশনগুলোর শুরুতে একটি নৈতিক হাদিসের ব্যাখ্যা উপস্থাপন করতেন। মহানবী হযরত মুহাম্মদ মুস্তফা (সা.)-এর একটি হাদিসের আলোকে “দ্বীনের পথে সম্পদ ও জীবন উৎসর্গ” বিষয়ক তাঁর ধারাবাহিক ব্যাখ্যা নিচে তুলে ধরা হলো—
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম
আলহামদুলিল্লাহি রব্বিল আলামিন।
পঞ্চমত, মহানবী (সা.) আমিরুল মুমিনীন (আ.)-কে যে উপদেশগুলো দিয়েছিলেন, তার মধ্যে পঞ্চম উপদেশটি হলো:
“তোমার দ্বীনের জন্য তোমার সম্পদ ও জীবন উৎসর্গ করো।”
দেখুন, এই বক্তব্য কত মহান! নিজের দ্বীনের জন্য নিজের সম্পদ ও জীবন উৎসর্গ করো। যদি দ্বীন রক্ষার জন্য তোমার সম্পদ ব্যয় করা প্রয়োজন হয়, তবে তা ব্যয় করো। যদি জীবন দিতে হয়, তবে জীবনও দাও।
দ্বীন রক্ষার বিষয়টি আবার দুইভাবে ব্যাখ্যা করা যেতে পারে। একটি অর্থ হলো, নিজের ব্যক্তিগত দ্বীনকে রক্ষা করা—অর্থাৎ নিজের ঈমান ও আমলকে সংরক্ষণ করা। যদি নিজের ঈমান রক্ষার জন্য প্রয়োজন হয় যে তুমি তোমার সম্পদ কিংবা জীবন বিসর্জন দেবে, তবে তা দাও। অবশ্য তাকিয়া, জরুরি অবস্থা এবং অনুরূপ বিষয়গুলোর নিজস্ব বিধান রয়েছে।
আরেকটি অর্থ, যা সম্ভবত অধিকতর প্রযোজ্য, কিংবা উভয় অর্থই একসঙ্গে উদ্দেশ্য হতে পারে—তা হলো, এখানে “তোমার দ্বীন” বলতে ইসলামকে বোঝানো হয়েছে। অর্থাৎ ইসলাম রক্ষার জন্য তোমার জীবন দাও। যদি দেখো, তোমার দ্বীন অর্থাৎ ইসলামের বিরুদ্ধে আক্রমণ হচ্ছে, ষড়যন্ত্র হচ্ছে, তার বিরুদ্ধে সংগ্রাম চালানো হচ্ছে, আর তোমার দায়িত্ব হলো ময়দানে গিয়ে বুক চিতিয়ে দাঁড়ানো, তাহলে দাঁড়াও। যদি তোমার সম্পদ দিতে হয়, দাও। যদি জীবন দিতে হয়, তাও দাও। বিষয়টি এমনই।
এটি মহানবী (সা.)-এর পক্ষ থেকে আমিরুল মুমিনীন (আ.)-এর প্রতি এক মহান ও মূল্যবান উপদেশ। ইনশাআল্লাহ, আমরা সবাই এ অনুযায়ী আমল করার তাওফিক লাভ করব।
এর সম্পূর্ণ বিপরীত হলো—মানুষ তার দ্বীনকে সম্পদ অর্জনের মাধ্যম বানায়, সম্মান ও মর্যাদা লাভের সিঁড়ি বানায়। এটি অত্যন্ত নিকৃষ্ট ও জঘন্য কাজ। যখন দ্বীনের জন্য সবকিছু উৎসর্গ করার শিক্ষা দেওয়া হয়েছে, তখন মানুষ যদি দ্বীনকে, দ্বীনদারির ভানকে কিংবা দ্বীন ত্যাগ করাকেই দুনিয়াবি স্বার্থ হাসিলের উপায় বানায়, তবে তা কতই না নিকৃষ্ট!
কেউ যদি সম্পদ অর্জনের জন্য নিজের ঈমান থেকে সরে আসে, কিংবা ধন-সম্পদ ও সামাজিক মর্যাদা লাভের উদ্দেশ্যে নিজের শরয়ি দায়িত্ব ত্যাগ করে, তবে তা সত্যিই অত্যন্ত জঘন্য ও নিকৃষ্ট কাজ। মহানবী (সা.)-এর এই মহান বাণী থেকে এমন শিক্ষাই গ্রহণ করা যায়।
আপনার কমেন্ট